আত্মহত্যা এবং কিছু কথা।  আত্মহত্যা এবং কিছু কথা।

আত্মহত্যা সম্পর্কে দেশের প্রচলিত আইন কি বলে?

একটা মানুষের কাছে সবচেয়ে প্রিয় জিনিস কী জানেন? নিজের জীবন।

একজন বৃদ্ধ লোক তার সকল চেষ্টা করেন নিজের জীবনের শেষ কয়েকটা দিন বেঁচে থাকতে। সে জীবনটাই এতো প্রিয়। কতো কিছু পাওয়ার আছে দেওযার আছে। কতো ভালোবাসা, প্রেম , অভিমান, অর্থ, এ জীবনে প্রতিমুর্হুত বাচিয়ে রাখে। কতো প্রিয়জনের মুখ । কতো ভালবাসা। আদর , আরো কতো কী?

সেই জীবন টা নেই এ কথা সেকেন্ডের জন্য কী কেউ ভাবতে পারে? কীভাবে একটা মানুষ সেই জীবন টা নিজে শেষ করে দিতে পারে , ভাবতে পারেন । আত্মহত্যা । এক অশেষ কষ্টের সর্বশেষ পরিনতি। নিজের হাতে জীবনটা চলে যায়। হয়তো শেষ সেকেন্ডে মনে পড়ে প্রিয়জনের মুখ। সেই হাসি। যা আজও ভুলিয়ে দেয় সব কষ্ট। মায়ের মুখ। মা হাসি মুখে ডাকছেন। আয় বাবা/মা আয়।

 

প্রিয়তম / প্রিয়তমার একটি কথাঃ

এতকিছুর মাঝে ও অসহ্য যন্ত্রণা বোধ হবে। শেষ সেকেন্ডে বাচার চেষ্টা করবে । আকড়ে ধরে চিতকার করতে চাইবে সব হারানো মানুষ টি। আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে আসবে শরীর। চোখ বুঝে আসবে। হয়তো কারো কথা খুব মনে পড়বে। আবার বাচতে ইচ্ছা করবে । কিন্তু আর উপায় থাকবে না। মৃত্যুর পথে যাত্রা শুরু হয়ে গেছে । এভাবে ই একটি জীবন শেষ হয়ে যাবে।

অওকিগাহারাঃ

জাপানের ফুজি পর্বতমালার একটি জঙ্গল। গাছের সমুদ্র নামে পরিচিত এ জঙ্গলে প্রতি বছর ১০০ এর বেশি মৃতদেহ উদ্ধার ককরা হয়।
আত্মহত্যা হলো নিজেকে ইচ্ছাকৃত শেষ করে দেয়া।

প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ লোক আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যা বিশ্বে মৃত্যুর ১৩ তম কারণ। যাদের বয়ন ৩৫ বছরের নিচে তারা ই প্রধানত আত্মহত্যা করে থাকে । তবে দেখা যায় যে পুরুষের আত্মহত্যার হার মেয়েদের তুলানায় প্রায় ৩ থেকে ৪ গুণ।

 

ইতিহাস কী বলেঃ

প্রাচীন এথেন্সে যারা আত্মহত্যা করত তাদের কবর শহরের বাইরে দেয়া হতো।  রোমে আত্মহত্যা প্রাথমিক ভাবে অনুমোদিত ছিলো। যেমন --গ্ল্যাডিয়েটর যুদ্ধে স্বেচ্ছাসেবকের মৃত্যু, অন্যের জীবন বাচাতে, শোকের ফলে , ধর্ষণের লজ্জায়। ২৭% -৯০% এর বেশি আত্মহত্যা হয় মানসিক সমস্যার কারনে। অর্ধেকের বেশি জটিল ডিপ্রেশনে থাকে । মানসিক রোগ যেমন বাইপোলার ডিসঅর্ডার আত্মহত্যার জন্য দায়ী।

পদ্ধতিঃ গলায় ফাসঁ দিয়ে, বিষাক্ত কীটনাশক পান করে, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে।

আইন কী বলেঃ পেনাল কোড ১৮৬০, ধারা : ৩০৫। শিশু বা উম্মাদ ব্যাক্তিকে আত্মহত্যার প্ররোচনায় মৃত্যুদন্ড

ধারা:৩০৯, আত্মহত্যার চেষ্টার জন্য ১ বছর মেয়াদের কারাদন্ড। মরে না গেলে আইন আপনাকে ছাড়বে না।

 

আত্মহত্যা থেকে ফিরানোর উপায়ঃ

নিজের জীবনকে ভালবাসতে হবে। বুঝতে হবে যে নিজে মরে গেলেই সব শেষ হয়ে যায় না। মা ১০ মাস কষ্ট করছে শুধু আজকের এই পরিণতি দেখার জন্য নয়। আমাদের চারপাশের মানুষগুলোর অনেক দায়িত্ব থেকে যায়। অনেক কিছু করার থেকে যায়। আত্মহত্যার পর লাশ টা কাধে নিয়ে যাওয়া দায়িত্ব হতে পারে না। তাই সচেতন হন আপনার পরিবারের মানুষটির আচরনে। আপনার বন্ধু বা প্রিয় মানুষটির আচরণে।  বুঝতে হবে, বুঝাতে হবে। এই পথ ধরে নয় জীবন কিছু না। মানসিক রোগের সমস্যা ডাক্তার ই সমাধান করতে পারেন।

 

তাই দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। এভাবে ঝরে পড়া জীবন গুলো বাঁচিয়ে দিন।

 

কৃতজ্ঞতাঃ Manna Dey, ASP, Bangladesh police.



জনপ্রিয়