জাপানের উন্নত প্রযুক্তির ট্রেনগুলো ভেতরে দেখতে কেমন, কেন এইগুলো পর্যটকদের এতো আকর্ষণীয়?    জাপানের উন্নত প্রযুক্তির ট্রেনগুলো ভেতরে দেখতে কেমন, কেন এইগুলো পর্যটকদের এতো আকর্ষণীয়?

জাপানের উন্নত প্রযুক্তির ট্রেনগুলো ভেতরে দেখতে কেমন, কেন এইগুলো পর্যটকদের এতো আকর্ষণীয়?

জাপানের যাত্রীদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে রেলওয়ে। পৃথিবীর ৫১ টি ব্যস্ততম স্টেশনের মধ্যে ৪৫ টি স্টেশনে জাপানে অবস্থিত। এবং এটা বিস্ময়কর নয়। জাপানের উন্নতি শুধুমাত্র প্রযুক্তির সাথেই সীমাবদ্ধ নয় বরং তাদের প্রযুক্তি জনজীবনের আরামকেও প্রভাবিত করে এবং জাপানের ট্রেনগুলো আরামের এক অনন্য উদাহরণ। আমাদের কাছে জাপানের ট্রেন ব্যবস্থাগুলো অসাধারণ লেগেছে তাই সে ট্রেনগুলোর ভেতরের অবস্থা আপনাদের কাছে তুলে ধরলাম।

সানরাইজ এক্সপ্রেস

© ajitk55

© ajitk55

রাতে যাতায়াতের জন্য ঘুমানোর সকল সুযোগ-সুবিধা রয়েছে জাপানের এই সানরাইজ এক্সপ্রেস ট্রেনে। এই ট্রেনটি দুটি ট্রেনে বিভক্ত একটি ট্রেন। দুটি ট্রেনের নাম হচ্ছে যথাক্রমে সানরাইজ ইজম এবং সানরাইজ সেটো। এই দুটো ট্রেন একসাথে যুক্ত হয়ে টোকিও থেকে ওকিয়ামাতে যায় সেখানে যাওয়ার পর দুটো ট্রেন বিভক্ত হয়ে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।

© sandy_ganlath

© sandy_ganlath

সানরাইজ ইজমো ইজোমোসিতে যাত্রা করে অন্যদিকে সানরাইজ সেটো টাকামাতশুতে যাত্রা করে। এবং দুটো ট্রেন যখন আবার ওকিয়ামাতে ফিরে আসে পুনরায় একসাথে যুক্ত হয়ে টোকিওর উদ্দেশ্যে যাত্রা সম্পন্ন করে। এই ট্রেনে ভ্রমণ করার অর্থ হলো জাপানিদের জীবনের চমৎকার সাংস্কৃতিক দর্শনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া পাশাপাশি জাপানের চমৎকার ভূদৃশ্য গুলোকে স্বচক্ষে দেখার সুযোগ পাওয়া।

প্রথম শ্রেণী

© Douglaspperkins / Wikimedia Commons   © Douglaspperkins / Wikimedia Commons

© Douglaspperkins / Wikimedia Commons © Douglaspperkins / Wikimedia Commons

অনেক আধুনিক ট্রেন গুলোতে এমন ধরনের সুযোগ সুবিধা নেই জাপানের এই ট্রেনটিতে রয়েছে। আপনি জেনে অবাক হবেন এই ট্রেনটির প্রায় ছয় ধরনের বাসস্থান সুবিধা রয়েছে। সিঙ্গেল ডিলাক্স "এ" ক্লাসে একজন যাত্রীর জন্য একটি আরামদায়ক কক্ষ রয়েছে। টক এর মধ্যে একটি টেবিল এবং একটি চেয়ার পাশাপাশি বিছানার পাশে একটি বেসিন রয়েছে। আরো রয়েছে আলো এবং শব্দ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা এবং যাত্রী স্লিপার থেকে শুরু করে বাথরুম এবং নির্দিষ্ট পরিমাণের প্রসাধনী সামগ্রী।

এই কামরাগুলো ব্যবহার করার সুবিধা হিসেবে একজন যাত্রী গোসলের সুবিধা বিনামূল্যে উপভোগ করতে পারেন। এই বাসস্থান সুবিধা আপনাকে এমন অনুভূতি এনে দেবে যাতে আপনার মনে হবে আপনি একটি সুন্দর হোটেল কক্ষে চড়ে কোথাও যাচ্ছেন পাশাপাশি প্রশস্ত জানালা দিয়ে স্থানীয় সৌন্দর্য গুলোকে উপভোগ করছেন। যদি আপনি সর্বোচ্চ আরাম এবং গোপনীয়তার পছন্দ করেন তাহলে নিশ্চিত ভাবে আপনি এ তালা বিশিষ্ট এই স্বতন্ত্র কামরাগুলো সবার প্রথমে পছন্দ করবেন।

দ্বিতীয় শ্রেণী

© ウォルサム / Wikimedia Commons   © W0746203-1 / Wikimedia Commons

© ウォルサム / Wikimedia Commons © W0746203-1 / Wikimedia Commons

অন্যান্য জীব বাসস্থান সুবিধা গুলো রয়েছে সেগুলো মূলত দ্বিতীয় শ্রেণীর "বি" ক্লাস এর অন্তর্গত: সানরাইজ টুইন, সিঙ্গেল টুইন, সিঙ্গেল এবং সলো এই সকল নামের বাসস্থান সুবিধা রয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণীতে। এই সকল বাসস্থান সুবিধায় মূলত একজন কিংবা দুইজন মানুষের জন্য প্রযোজ্য। প্রথম শ্রেণীর মত অত সুবিধা না থাকলেও দ্বিতীয় শ্রেণীতে কম সুযোগ সুবিধা নেই।

এসকল কামরার দরজা গুলো আপনি চাইলে তালাবদ্ধ রাখতে পারবেন। এবং দরজা গুলো আটকানোর পরে আপনার একা থাকা এবং সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের পরিপূর্ণ পরিবেশ স্বয়ংক্রিয় ভাবে তৈরি হয়ে যায়। আরো একটা সুবিধা হচ্ছে আপনি এসকল রুমে চাইলে আপনার বন্ধুদের নিয়ে থাকতে পারবেন। এর চেয়ে ভাল কি হতে পারে একটি ছোট্ট কক্ষে নিজের বন্ধুদের নিয়ে কোথাও ভ্রমন করা?

নবিনবি

© apubby

© apubby

এই শ্রেণীতে আর একটি কামরা রয়েছে যাকে বলা হয় নবিনবি। সর্বশেষ প্রকারভেদ থেকে আমরা বলছি নবিনবি শোবার জায়গা। এটার দুই স্তর বিশিষ্ট একটি সমতল এবং শক্ত পৃষ্ঠের শোবার জায়গা। প্রতিটি শোবার জায়গা একটি অন্যটি থেকে ছোট কাঠের দেয়াল দিয়ে বিভক্ত হয়েছে ধুম প্রত্যেকটি বিছানার সাথে একটি করে জানালা রয়েছে যাতে একজন পর্যটক বা যাত্রী ট্রেনটি যে সকল শহর অতিক্রম করছে সেগুলোর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।

© studioshuko

© studioshuko

শোয়ার এই জায়গা গুলো আরামদায়ক ঘুমের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় না হয়েও স্থানীয় হওয়ার অনুভূতি অনুভব করা পাশাপাশি নতুন মানুষের সাথে সাক্ষাৎ আপনাকে জাপানিদের সংস্কৃতিতে নিমজ্জিত হওয়ার এক দারুন সুযোগ সরবরাহ করবে। এমনকি চীনের মধ্যে ও দেশের ঐতিহ্য কে ন্যূনতম অশ্রদ্ধা করার সুযোগ নেই। আপনি যখন ঘুমাতে যাবেন অবশ্যই তার আগে আপনার জুতা খুলে যথাযথ স্থানে রাখতে হয়।

প্রতি গোসলের জন্য নির্ধারিত ৬ মিনিট

© しんかわな / Wikimedia Commons   © W0746203-1 / Wikipedia Commons

© しんかわな / Wikimedia Commons © W0746203-1 / Wikipedia Commons

ট্রেনের মধ্যে সকল উন্নত সুযোগ সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে টয়লেট, ড্রিঙ্ক ভেন্ডিং মেশিন, ধূমপানের জন্য কক্ষ, এবং আরামদায়ক কক্ষ যেখানে আপনি আলস্য কাটাতে পারবেন।

একটি বগিতে হুইল চেয়ারে প্রবেশ করার জন্য আলাদা কামরা রয়েছে। একটু অস্বাভাবিক এবং চমৎকার একটা বিষয় গোসলের সময় ঘটে। আপনার প্রতিটি গোসলের জন্য আপনাকে পরিশোধ করতে হবে। এক ধরনের বিশেষ কার্ড রয়েছে যেটা কেনার পর এই আপনি গোসলের জন্য সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি আপনার গোসলের জন্য বরাদ্দ সময় হচ্ছে মাত্র ৬ মিনিট।

গোসলখানা ভেতরে একটি স্বয়ংক্রিয় ঘড়ি রয়েছে যেখানে সময় উঠতে থাকে এবং ঠিক ৬ মিনিট পর আপনার ঝরনার পানি বন্ধ হয়ে যাবে। একটা ছোট্ট প্রতিযোগিতা যেখানে আপনাকে সময়ের আগেই শ্যাম্পু এবং সাবানের ফেনা ধুয়ে সাফ করতে হবে। এবং জাপানের পরিছন্নতা ঐতিহ্য অনুযায়ী আপনার গোসল শেষ হওয়ার সাথে সাথে অটো ক্লিন বাটনে চাপ দিতে হবে।

আপনি কি জাপানের ট্রেনে ভ্রমণ করতে চান? কোন বিষয়টা আপনার বেশি ভাল লেগেছে? কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না। সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।



জনপ্রিয়