শিশুদের ক্ষেত্রে যে ভুলগুলো করেও বাবা-মা ভুল মনে করেন না!  শিশুদের ক্ষেত্রে যে ভুলগুলো করেও বাবা-মা ভুল মনে করেন না!

শিশুদের ক্ষেত্রে যে ভুলগুলো করেও বাবা-মা ভুল মনে করেন না!

পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিনতম কাজগুলোর অন্যতম হল সন্তান লালন পালন করা। সন্তান লালন-পালনে বাবা-মায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক বাবা-মায়েরাই এ কাজটিকে সঠিকভাবে করতে পারেন না। ফলে তাদের ভুল আচরণের কারণে সন্তান বিপথগামী হয়ে পড়ে।    

আমরা নিশ্চিত যে, একজন শিশুর জীবনের প্রথম বছরগুলো ম্যাজিক্যাল থাকে যা আপনার উপভোগ করা উচিৎ। কারণ ভবিষ্যতে, আপনি হয়তো হারানো এই সুযোগের জন্য অনুশোচনা করতে পারে। তাই এই ভুলগুলো এড়ানোর জন্য কিছু বিষয় অবশ্যই করা উচিৎ।  

 

১. তারা তাদের সন্তানদের সঙ্গ উপভোগ করেন না

brightside

brightside

একটা ছোট্ট শিশু এতো দ্রুত বৃদ্ধি পায়, সে কখন যে অপেক্ষাকৃত স্বাবলম্বী ব্যক্তি হয়ে উঠে তা বুঝে উঠতে পারি না এবং সেই সময় সত্যিই প্রাপ্তবয়স্কদের সাথে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ প্রয়োজন। কিন্তু সত্যটা হল এই যে, বাবা মায়েদেরই এই যোগাযোগের প্রয়োজনটা বেশী। তবে হ্যাঁ, বাবা-মায়ের সময়ের স্বল্পতা এবং বাচ্চা খেলার সময় যদি তারা অন্য কাজ করে সেটা ঠিক আছে। কিন্তু আপনি যদি এটাকে অভ্যাসে পরিণত করেন তবে কিছুদিন পর আপনি হয়তো লক্ষ্য করবেন যে, আপনার সন্তান ইতোমধ্যে বড় হয়ে উঠেছে এবং নিজের মতো করে জীবন পরিচালিত করছে।    

আপনার হারানো সময় ফিরিয়ে আনার কোন উপায় নেই, তাই আপনার সন্তানের সাথে শুধুমাত্র শারীরিকভাবে ঘনিষ্ঠ থাকার চেষ্টা না করে মানসিকভাবে তাদের সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করুন। আপনার সন্তানের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো উপভোগ করুন! 

 

২. তারা তাদের সন্তানদেরকে প্রায়শই আলিঙ্গন করেন না

brightside

brightside

বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে, স্বাস্থ্যের (নৈতিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য উভয়ের জন্য) জন্য আলিঙ্গনের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিদিন ২০ সেকেন্ড পিতা বা মাতার আলিঙ্গন অল্প বয়সী সন্তানের জন্য খুব দরকারি। সুস্বাস্থ্য আর আনন্দের পেছনে আলিঙ্গন ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।   

সময়ের সাথে সাথে, শিশু বড় হবে এবং আপনাকে আর আলিঙ্গন করবে না। তাই আপনি যতদিন পারেন ততদিন এই মুহূর্তগুলো উপলব্ধি করুন।

 

৩. তারা যথেষ্ট ছবি এবং ভিডিও নেন না

brightside

brightside

অবশ্যই, আপনি ছবি না নিলেও খারাপ কিছু হবে না। এটি শিশুর মানসিক অবস্থা, তাদের নৈতিক গুণাবলী, বা তাদের শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাবিত করবে না। কিন্তু ভবিষ্যতে আপনার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মুহুর্তগুলি মনে রাখতে এবং আপনার প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের সাথে সেই ইমোশনগুলো শেয়ার করার জন্য এটা করলে ভালো। অনেক পিতামাতাই পরবর্তীতে ক্যামেরা ব্যবহার না করার জন্য আফসোস করে থাকে্ন। 

আপনি আপনার ছোট্ট বাচ্চার প্রথম হাঁটার ভিডিও নিশ্চয়ই পরবর্তী সময়ে বারবার দেখতে চাইবেন। তাই আপনার সন্তানের ছবি এবং ভিডিও সংগ্রহ করে রাখুন। 

 

৪. তারা বাচ্চাদের বলা প্রথম শব্দগুলো লিখে রাখেন না

brightside

brightside

এই অনেক মধুর স্মৃতি। আপনি সহজেই তাদেরকে ছাড়া বাস করতে পারেন, কিন্তু তাদেরকে পাশে পেলে আরো ভালো লাগবে।  

 

৫. তারা যথেষ্ট সৃষ্টিশীল খেলা খেলেন না

brightside

brightside

আমরা এটা বলছি না যে, আপনি যদি আপনার সন্তানের সাথে সৃষ্টিশীল খেলা খেলেন তাহলে আপনার শিশু অবশ্যই একজন ভাল শিল্পী বা আর্টিস্ট হয়ে উঠবে। কিন্তু এটা হওয়ার সুযোগ এবং সম্ভাবনা রয়েছে। আপনি যদি আপনার সন্তানের সাথে বিভিন্ন ধরনের খেলা করেন, তাহলে আপনি আপনার সন্তানের আগ্রহ কি তা ভালমতো জানতে পারবেন। পরে আপনি তাদের বিকাশে কাজ করতে পারবেন। 

অভিজ্ঞ বাবা-মা প্রায়শই তাদের বাচ্চাদের প্রতিভা লক্ষ্য না করে দুঃখ প্রকাশ করেন, যদিও খুব অল্প বয়সেই কিছু দক্ষতা লক্ষ্য করা যায়। তাই আপনার সন্তানের সাথে বিভিন্ন ধরনের খেলা করার চেষ্টা করুন এবং যতটা সম্ভব আপনার বাচ্চার প্রতিভা লক্ষ্য করার চেষ্টা করুন।  

 

৬. তারা কিছুটা কঠোর থাকেন

brightside

brightside

সন্তানকে কখনোই শারীরিক শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। কারণ এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, শারীরিক শাস্তি শিশুর মানসিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। একটা জনপ্রিয় মিথ রয়েছে, তা হল উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকলে ব্যক্তি আরো সফল হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে, আপনি এটার বিপরীত প্রভাবও পেতে পারেনঃ আচরণগত সমস্যা এবং বিকাশে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এতে আপনার সন্তানের সাথে আপনার মূল্যবান একটি সম্পর্ক খারাপ হতে পারে।  

 

৭. তারা তাদের বাচ্চাদের মতামত বিবেচনা করেন না

brightside

brightside

আপনি হয়তো 'তুমি এখনো অনেক ছোট' বা 'বড়রা ভালো জানেন' এইরকম কিছু বলতে শুনেছেন বা নিজেও বলেছেন এবং এই কথাগুলো অসন্তুষ্ট সৃষ্টি করে। শিশুদের মতামতকে অগ্রাহ্য বা উপেক্ষা করলে তারা অনিরাপদে বেড়ে উঠবে।  

তাই আপনার সন্তানের ইচ্ছা এবং তাদের নিজস্ব মতামত প্রকাশ করার সুযোগ দিন। বাচ্চাদের বারণ এবং উপেক্ষা করার পরিবর্তে তাদের ইচ্ছার বিষয়ে আলোচনা করে সেটা ব্যাখ্যা করুন।   

 

৮. তারা তাদের বাচ্চাদের যথেষ্ট খুশি করেন না

brightside

brightside

আমাদের শৈশবের স্মৃতি সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস, যা কেউই আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে পারে না। একটি শিশু যদি ভাল পরিবেশে বেড়ে উঠে এবং সে অনেক নতুন অভিজ্ঞতা লাভ করে তাহলে বুঝতে পারবেন সে সক্রিয়ভাবে বিকশিত লাভ করছে। সুখী শিশুরা সহজেই বড়দের জীবন মানিয়ে নিতে এবং নতুন সম্পর্ক তৈরি করতে পারে।  

বাবা-মায়েরা প্রায়শই তাদের সন্তানদের সাথে কাটানো সময়ে নস্টালজিক হয়ে পড়েন। তাই সন্তানদের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো উপভোগ করুন এবং আপনার জীবনকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলুন। আপনার সন্তানকে যতটা সম্ভব তাদের জীবনের অনেক খুশির মুহূর্তগুলো দেওয়ার চেষ্টা করুন। 

 

৯. তারা প্রায়শই অন্য মানুষদের পরামর্শ অনুসরণ করেন

brightside

brightside

এমন কতকগুলো মানুষ রয়েছে, যারা শুধু অন্যদের উপদেশ দিতে পছন্দ করে, এমনকি অনুপযুক্ত এবং অল্পবয়সী মায়েরা প্রায়ই তাদের কথা শোনে। কিন্তু নামমাত্র এই বিজ্ঞজনদের চেয়ে আপনি আপনার সন্তানকে ভাল জানেন। অবশ্যই, আপনি তাদের পরামর্শ শুনতে পারেন, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনাকে তাদের অনুসরণ করতে হবে। 

আরেকটি বিষয় প্রত্যেক বাবা-মায়েদেরই মনে রাখা উচিৎ, তা হল অপরিচিত ব্যক্তিদের আপনার সন্তানকে খারাপ হয়ে যাচ্ছে বলতে দিবেন না। আপনাকে সবসময় আপনার সন্তানের পক্ষে কথা বলা উচিৎ এবং তাদেরকে মনে করানো উচিৎ যেকোন পরিস্থিতিতেও আপনি আপনার সন্তানের পক্ষে আছেন। 

 

১০. তারা তাদের সন্তানদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সময় উপস্থিত থাকেন না

brightside

brightside

কিছু বিষয় রয়েছে যা আমাদের কাছে গুরুতর বলে মনে নাও হতে পারে, কিন্তু সেই বিষয়টা শিশুদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাদের সেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অভিভাবকদেরকে তাদের কাছাকাছি থাকতে হবে। এমনকি যদি আপনার মনে হয় যে, আপনার সন্তানের জন্মদিনের পার্টি মিস করার একটি ভাল কারণ রয়েছে, তারপরেও তা কখনো করার চেষ্টা করবেন না। ভবিষ্যতে, আপনি যখন বুঝতে পারবেন যে আপনি জীবনে কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট মিস করেছেন তখন আপনি কষ্ট পাবেন। 

তাই জন্মদিন পার্টিতে যোগ দিন, থিয়েটারে যান বা দাদা-দাদী, নানা-নানীদের সাথে সময় কাটানোর জন্য সময় বের করুন। এইসব বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং বাচ্চারা যখন বড় হয়ে যাবে, তখন আপনি এই মুহূর্তগুলো মিস করবেন। 

 

আপনার কি মনে হয় আপনি কোন বিষয়টা সবচেয়ে বেশি মিস করেন? কমেন্টে আমাদের সাথে শেয়ার করে জানান। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। 



জনপ্রিয়