ইতিহাসের চৌদ্দটি ব্যয়বহুল ভুল!  ইতিহাসের চৌদ্দটি ব্যয়বহুল ভুল!

ইতিহাসের চৌদ্দটি ব্যয়বহুল ভুল!

পৃথিবীতে সব মানুষই ভুল করে, কোন মানুষই নির্ভুল নয়। কিছু কিছু ভুলের পরিণতি অত্যন্ত ব্যাপক হয়ে থাকে। এর ফলে অনেক ক্ষতি সাধন হয়। আজ আমরা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব পৃথিবীর ইতিহাসের চৌদ্দটি ব্যয়বহুল ভুল!

 

১৪. সম্পূর্ণ একটি বিল্ডিং ধসে পড়া!

© reddit

© reddit

একটি আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ভাবে ধসে পড়েছিল। এটির পিছনে মূল কারণ ছিল নির্মাণ ক্রুটি ও নিম্নমানের কাঁচামাল।

 

১৩. ১৫০ বছরের পুরনো গিটার ধ্বংস করে ফেলা!

© The Weinstein Company

© The Weinstein Company

ছবির একটি নির্দিষ্ট দৃশ্যে কার্ট রাসেল তাঁর হাতে থাকা গিটার ভেঙ্গে ফেলে, কিন্তু তিনি জানতেন না যে, এটি একটি ঐতিহাসিক গিটার। যার বয়স ১৫০ বছর। এটি শুটিং এর জন্য মার্টিন গিটার মিউজিয়াম থেকে ভাড়া করে আনা হয়েছিল।  

 

১২. প্রশস্ত ট্রেন আর সরু প্লাটফর্ম!

© Wikimedia Commons /   © fox

© Wikimedia Commons / © fox

২০১৪ সালে এস.এন.সি.এফ রেলওয়ে কোম্পানি তাদের ট্রেন গুলো আধুনিকীকরণের সিদ্ধান্ত নেয়। তারা ২,০০০টি নতুন ট্রেন অর্ডার দেয়। অনেক পুরনো স্টেশন ছিল যেগুলোর রেল লাইন অত্যন্ত সরু ছিল। আর নতুন যেসকল ট্রেনের মাপ পাঠানো হয়, সেগুলো রেল লাইনের তুলনায় প্রশস্ত হওয়ার ফলে জরুরী ভিত্তিতে রেল লাইন গুলো প্রশস্ত করতে হয়। এতে করে আরও ৫০ মিলিয়ন অর্থ বেশী খরচ করতে হয়।

 

১১. ছাপার ভুলে বিরাট ক্ষতি!

© pixabay /   © imgur

© pixabay / © imgur

জাপানিস একটি কোম্পানী মিযুহ সিকুউরিটিস তাদের ১টি শেয়ার ৬১০,০০০ ইয়েন মূল্যে টোকিও স্টকে বিক্রয় করার জন্য এ্যাড দেয়। সেখানে ভুলক্রমে ৬১০,০০০টি শেয়ার ১ ইয়েন মূল্যে ছাপানো হয়। এর ফলে স্টকে বিরাট লোকসান গুনতে হয়।

 

১০. অতি ভারী সাবমেরিন যা আর জলে নামানোই হয়নি!

© facebook

© facebook

স্প্যানিশ সরকার নতুন সাবমেরিন (দ্যা ইসাক পেরাল) তৈরির জন্য প্রায় ১.৭৫ বিলিয়ন অর্থ বিনিয়োগ করে। তবে তৈরীর ক্রুটির কারণে এটি এতটাই ভারী হয় যে, জলে নামানোর পর পানির উপরে ভেসে থাকতে পারবেনা। আর ফলে এটিকে আর জলে নামানোয় হয়নি।

 

৯. আলাস্কা বিক্রয়!

© Emanuel Leutze, Wikimedia Commons /   © pixabay

© Emanuel Leutze, Wikimedia Commons / © pixabay

ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে রাশিয়ার অ্যালেক্সান্ডার দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত নেন বরফে ঢাকা আলাস্কাকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার। আর সেই মতে তারা সেটি করেও ফেলেন ৭.২ মিলিয়ন ডলারে। সেই লেনদেন থেকে রাশিয়া খুব অল্পই লাভ করতে পারে, কিন্তু তারা হারায় কোটি কোটি মূল্যের প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ একটি অঞ্চল।

 

৮. মিলেনিয়াম বা দোলানো ব্রিজ

© pixabay

© pixabay

এই ব্রিজটি টেমস নদীর দুই তীরকে সংযুক্ত করেছে। যা ২০০০ সালে খুলে দেয়ার সাথে সাথেই আবার বন্ধ করে দেয়া হয়। অনেক মানুষ ব্রিজটিতে একসাথে উঠার সাথে সাথে এটি নাটকীয় ভাবে দোলতে থাকে। এটির নির্মাণ ব্যায় ছিল ১৮.২ মিলিয়ন। পরে পুনর্গঠন করার জন্য আরও ৫ মিলিয়ন খরচ হয়।

 

৭. মহাকাশযানের পতন!

© NASA/JPL, Wikimedia Commons

© NASA/JPL, Wikimedia Commons

মঙ্গল গ্রহের আবহওয়া পর্যবেক্ষণ করার জন্য নাসা একটি মহাকাশ যান প্রেরণ করেন। তবে যান চালনায় পৃথিবী থেকে যে আদেশ পাঠানো হয় সেখানে সামান্য ভুলে যানটি মঙ্গল গ্রহের বায়ুমণ্ডলের ভিতরে প্রবেশ করে এবং এর পতন ঘটে।

 

৬. অ্যাপেলের শেয়ার বিক্রি!

 ©internet

©internet

রোনাল্ড ওয়েনি অ্যাপেলের অন্যতম একজন প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তিনি অ্যাপেলের প্রথম লোগো তৈরি করেছিলেন। ১৯৭৬ সালে তিনি তাঁর ১০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করেন ৮০০ ডলারে। এখন হয়ত তিনি পৃথিবীর অন্যতম বিলিয়নিয়ারের একজন হয়ে যেতেন।

 

৫. গাড়িকেও গলিয়ে দিতে পারে আকাশচুম্বী এমন বাড়ি!

© flickr /   © pixabay

© flickr / © pixabay

লন্ডনের আকাশচুম্বী “ওয়াকি-তুয়াকি” সম্পূর্ণ একটি কাঁচের বাড়ি। দিনের বেলাতে সূর্যের তাপ এর মধ্যে প্রতিফলিত হয়ে এর নিচে থাকা যে কোন কিছুকেই গলিয়ে দিতে পারে। ক্ষয়-ক্ষতি কমানোর জন্য এর মধ্যে তাপ প্রতিরোধক গ্লাস লাগানো হয়েছে।

 

৪. লেক ফুটো করে দেওয়া!

© web.archive.org

© web.archive.org

১৯৮০ সালে তেলের খোঁজে একটি সম্পূর্ণ হৃদ খনন করা হচ্ছিল। খননের সময় হিসাবের কিছুটা ভুলের কারণে অন্য আরেকটি পাইপ লাইনে ফুটো করে দেয়া হয়।

 

৩. ফেলে দেয়া বিটকয়েন!

© Robin Drayton / geograph.org.uk

© Robin Drayton / geograph.org.uk

২০০৯ সালে বিটকয়েন অত্যন্ত সহজে পাওয়া যেত, তখন এর বাজার মূল্য তেমন ছিলনা। তবে ২০১৩ সালে এসে এটির মূল্য বেড়ে যায়। জেমস হোয়েল সে সময় তাঁর কাছে থাকা বিট কয়েন গুলোকে ডাসবিনে ফেলে দেয় কোন মূল্য নেই বলে। যার বাজার মূল্য ২০১৩ সালে এসে দাঁড়ায় ৭.৫ মিলিয়ন!

 

২. জাহাজ “ভাসা” যা সাথে সাথে ডুবে যায়!

© facebook

© facebook

“ভাসা” এটি সুইডিশ রাজার নির্দেশে তৈরি সতের শতকের নৌবাহিনীর একটি জাহাজ। এর নকশার ক্রুটির কারণে এটি অত্যন্ত অস্থিতিশীল। এটি স্টকহোমের উপসাগরে নামার সাথে সাথেই ডুবে যায়।

 

১. ধসে পড়ে ব্রিজের একটি অংশ

© Wikimedia Commons

© Wikimedia Commons

১৯৯৪ সালের ব্যাস্ততম সময়ে হান নদীর উপরে ধসে পড়ে এর উপরে থাকা ব্রিজের একটি অংশ। সে সময় ব্রিজটির উপরে গাড়ি, ছোট বাস এবং সম্পূর্ণ বোঝাই করা বড় বাস ছিল। নিম্নমানের লোহার ব্যাবহারকে এবং ঠিকমতো ঝালাই না করাকে ব্রিজটি ধসে পড়ার মূল কারণ বলে মনে করা হয়।

 

আমাদের আয়োজন ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট, শেয়ারের মাধ্যমে আমাদের সাথেই থাকুন। আমাদের পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ। 



জনপ্রিয়