এবার চীনারা তৈরী করছে গাছের দেয়াল! এবার চীনারা তৈরী করছে গাছের দেয়াল!

এবার চীনারা তৈরী করছে গাছের দেয়াল!

দিন দিন পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে, চীনার গোবি মরুভূমির আয়তন প্রতি বছর বাড়তে থাকায় চীনা পরিবেশবিদেরা গাছের দেয়াল তৈরির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। গোবি মরুভূমি, এটি জনশূন্য মরুময় একটি অঞ্চল। যা চীনের উত্তর অংশে চীন এবং মঙ্গোলিয়া সীমান্তে অবস্থিত। এই মরুভূমিটি আয়তনের দিক থেকে পৃথিবীর পঞ্চম স্থান দখল করে আছে। এর আয়তন প্রায় ১.৩ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার। এই অঞ্চলটি অত্যন্ত গরম এবং এর বাতাসে আর্দ্রতা নেই বললেই চলে। এর বালুময় দৃশ্য বেশ দৃষ্টিনন্দন।

 ©internet

©internet

 

তবে এর সাথে এটি একটি বার্তা বয়ে আনে, আর সেটি হল যে পৃথিবীর তাপমাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর এ মরুভূমিটির আয়তন প্রতি বছর বেড়েই চলেছে। চীনের গোবি এবং তাক্লামাকান মরুভূমির ফলে চীনের উত্তরপশ্চিম অঞ্চলে নিয়মিতভাবে বালুঝড় হতে থাকে। বালুঝড়ের ফলে আশে পাশের মানুষের বসত বাড়ি বালির চাদরে ঢেকে যায় এবং জমি অনুর্বর হয়ে পড়ে। এর দরুন শস্য উৎপাদন সম্ভব হয়না, ফলে মানুষ সেই স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যেতে থাকে। এটি চীনের প্রাণকেন্দ্র বেইজিংকেও প্রভাবিত করে।

 ©internet

©internet

 

একটি জাতি তাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর স্থাপত্যের নিদর্শন এর উপর পরিচিত হয়। চীনাদের অন্যতম ঐতিহাসিক নিদর্শন হল “দ্যা গ্রেট ওয়াল”। এর অনুকরণে তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে, মরুয়ায়ন ঠেকানোর জন্য তারা গাছের দেয়াল বা “দ্যা গ্রিন ওয়াল” তৈরি করবে। চীনা সরকার একটি পরিকল্পনা হাতে নেয়। যা চীনের উত্তর অংশে তিনটি ভাগে শুরু হবে এবং এ প্রোজেক্ট এর নাম দেয়া হয় “দ্যা গ্রিন ওয়াল ইন ১৯৭৮”।

 ©internet

©internet

 

তাদের লক্ষ্য ছিল উত্তরাংশের প্রায় ৪,৪০০ কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে ১০০ বিলিয়ন গাছ লাগানো। এখন পর্যন্ত তারা ৬৬ বিলিয়ন গাছ রোপন করতে সমর্থ হয়েছে। এই প্রোজেক্ট এর ফলাফল যাচাই করার জন্য এক জরিপ করা হয়। “ইন্সটিটিউশন অফ জিওগ্রাফি সাইন্স” এবং “ন্যাচারাল রিসোর্স রিসার্স অফ বেইজিং” এর জরিপ অনুযায়ী সম্প্রতি ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বালুঝড় আনুপাতিক হারে কমে গিয়েছে। এলাকার খামারিরা কৃষিকাজে লাভবান হচ্ছে।

 ©internet

©internet

 

এর অনুকরণে আরেকটি প্রোজেক্ট নেয়া হয়েছে আফ্রিকাতে যার নাম দেয়া হয়েছে, “দ্যা গ্রেট গ্রিন ওয়াল অফ সাহারা এন্ড সাহেল ”। এটি শুরু করা হয় ২০০৭ সাল। বিজ্ঞানী টান এর মতে “আমরা মনে করি উত্তর চীনের ভৌগলিক পরিবেশের দিন দিন উন্নতি হচ্ছে”।

আমাদের আয়োজন ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট, শেয়ারের মাধ্যমে আমাদের সাথেই থাকুন। আমাদের পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

 

তথ্যসুত্রঃ উইকিপিডিয়া, ছবিঃ wordpress.com,  retreet.org,  defence.pk,  footwearnews.com



জনপ্রিয়