পৃথিবীর যে ১২ টি রহস্য এখনো সমাধান করা যায়নি  পৃথিবীর যে ১২ টি রহস্য এখনো সমাধান করা যায়নি

পৃথিবীর যে ১২ টি রহস্য এখনো সমাধান করা যায়নি

আমাদের এই অসাধারণ গ্রহটি কখনোই আমাদের জন্য বিস্ময় তৈরি করা থামাবে না! এমন অনেক জিনিস এবং জায়গা আছে যেগুলো বিশ্লেষণ এবং ব্যাখ্যা করা যায় না। মানবজাতির জন্য এগুলো ধাঁধা হয়েই আছে, এবং প্রতিনিয়ত আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে যাচ্ছে।

আজকের লিস্টে থাকছে ১২ টি অবিশ্বাস্য জায়গা এবং বিস্ময়কর ঘটনা, যে গুলোর ব্যাখ্যা এখনও বিজ্ঞানীরা দিতে পারেননি।



মোরেকি বোল্ডার

source: internet

source: internet

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো এগুলোর আকার এবং আয়তন। এত নিখুঁত গোলক আকৃতির পাথর কিভাবে হয়? এটার এখনও পর্যন্ত কোনও সোজাসাপটা উত্তর নেই।

 

প্রাণীদের পরিযায়ন বা স্থানান্তর

source: internet

source: internet

রানীদের পরিযায়ন একটি প্রাকৃতিক ব্যাপার। প্রাণীরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যায়, সাধারণত নির্দিষ্ট কোন ঋতুতে। বিভিন্ন ধরনের পাখি মাছ কীটপতঙ্গ এবং স্তন্যপায়ীদের জেনেটিক প্যাটার্নে এত গুরুত্বপূর্ণ সহজাত প্রবৃত্তি কেন আছে তা বিজ্ঞানীরা এখনো ব্যাখ্যা করতে পারেন না।

 

গিজার পিরামিডের মহান স্ফিংস

source: internet

source: internet

এই স্ফিংসটির তুলনামূলক ক্ষুদ্র মাথা দেখে বোস্টনের জিওলজিস্ট রবার্ট স্কচ ধারণা করছেন যে, এই মূর্তিটির শুরুতে সিংহের মাথা ছিল। যেটাকে পরে রহস্যময় হাসিতে পূর্ণ ফারাওর মুখে রূপান্তর করা হয় (সেই ফারাওর নির্দেশে)।

তবে, এই তত্ত্বটিকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে মেনে নেয়া হয় না। খ্রিস্টের জন্মের ১১ শ' বছর আগে কালপুরুষ সমাবেশের তারাগুলো সাথে তিনটি পিরামিডের তারাগুলোর যে সমাবেশের তত্ত্ব গ্রাহাম হ‍্যানকক দিয়েছেন সেটিও রবার্ট স্কচের ধারণার সাথে মিলে না।

 

মিশরের অসমাপ্ত জাওয়িআত আল আরিয়ান পিরামিড

source: internet

source: internet

এই পিরামিডটি যুগ যুগ ধরে ট্যুরিস্টদের আকর্ষণ করতে পারেনি। এর ৭৫ ফুট গভীর হলওয়ে টি কঠিন পাথর কেটে তৈরি করা। বিজ্ঞানীরা আজও বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে যান এটা ভেবে যে কিভাবে প্রাচীন মিশরের লোকজন আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য ছাড়াই এই দেয়ালগুলো এত নিখুঁতভাবে তৈরি করেছেন।

source: internet

source: internet

বিশ্বাস করা হয়ে থাকে এটা পিরামিডের বেইস অথবা কোন এক ফারাওর কবর। কিন্তু এটার হল‌ওয়ে গুলো এখনো পর্যন্ত জানা যেকোন পিরামিডের চেয়ে অনেক বেশি বড়। তার উপর মিশরে কোন ডিম্বাকার কবর নেই। এর চেয়েও বিস্ময়কর হলো এই মন্দিরের মেঝেতে থাকা গ্রানাইটের পাথরগুলোও ওজনে অনেক ভারি। এই পিরামিড মিশর এর অন্য কোন পিরামিডের মতো নয়। কিভাবে এবং কেন এই পিরামিডটি বানানো হয়েছিল সেই প্রশ্নের উত্তর আজো মেলেনি!

 

সময় মেনে আলো তৈরি করা জোনাকিরা

source: internet

source: internet

যখন খুশি তখন আলো জ্বালানোর বদলে এই জোনাকি গুলো নির্দিষ্ট সময় পরপর একই সাথে জ্বলে আর একইসাথে নিভে(প্রতি এক বা দুই সেকেন্ড পর পর)। তারা আসলেই সময়ের সামঞ্জস্য বিধান করে চলে। ইউনিভারসিটি অফ সাউদান জর্জিয়ার জোনাকি বিশেষজ্ঞ জোনাথন কোপল‍্যান্ড দাবি করছেন এটা অবশ্যই কোন রিচুয়াল। তবে এখনো পর্যন্ত কেউ জানেনা এটা আসলে কি!

 

মেরিডিথ স্টোন

source: internet

source: internet

উইনিপিসাকি হ্রদের তীরে(নিউ হ্যাম্পশায়ার, যুক্তরাষ্ট্র) মেরিডিথ শহরে ১৮৭২ সালে খননকার্য চলাকালে এই পাথরটি পাওয়া যায়। এই পাথরটি কোয়ার্টজ রক থেকে তৈরি। নিউ হ্যাম্পশায়ারে কখনোই কোনো কোয়ার্টজ রক ছিল না, তাই বলা যায় এ পাথরটি অন্য কোথাও থেকে আনা হয়েছে। এই পাথরের ব্যবহার এবং কবে আনা হয়েছে এ বিষয়টি এখনো অজানা।

 

টাওসের রহস্যময় শব্দ (হাম)

source: internet

source: internet

টাওসের অধিবাসীরা অচেনা উত্স থেকে আসা নিচু কম্পাঙ্কের ধ্বনি শুনে আসছেন অনেক বছর ধরে‌। শব্দটি মনে করিয়ে দেয় অমসৃণ কোন বড় রাস্তায় ভারি যান চলাচলের শব্দকে। যদিও এই শহরের আশপাশে কোনো বড় রাস্তা নেই।

 

বলসই জায়াতস্কি দ্বীপে পাথরের গোলক ধাঁধা

source: internet

source: internet

এই দ্বীপে আছে অনেকগুলো সর্পিলাকার পাথরের নির্মাণ। কেউই জানে না এগুলোর সত্যিকারের ব্যবহার কি ছিল, তবে এসম্পর্কিত থিউরির অভাব নেই। কারো কারো মতে এটা কোন রিচুয়াল এর জন্য ব্যবহার করা হতো অথবা মাছ ধরার জাল তৈরির জন্য ছাঁচ হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

 

রিউকিউ দ্বীপের সোপানাকার নির্মাণগুলো

source: internet

source: internet

১৯৮৬ সালে একদল ডাইভার অনেকগুলো অদ্ভুত নির্মাণ এর সন্ধান পেয়েছেন, ইয়োনাগুনি দ্বীপে যেগুলো দেখতে আধুনিক স্থাপত্যকলায় নির্মিত বিল্ডিং এর মতো । পাথরগুলোর উপরে আছে নানারকম চিহ্ন, প্রাণীর ছবি ইত্যাদি দেখলে মনে হয় এগুলো হাতে বানানো। তবে গবেষকরা এ বিষয়টি এখনো তর্কের জন্য উন্মুক্ত রেখে দিয়েছেন।

 

প্রশান্ত মহাসাগরের উপরে লাল রঙের আলোকচ্ছটা

source: internet

source: internet

এই অদ্ভুত লাল আলো প্রথম দেখেছিলেন ক্রিস্টিয়ান ভ‍্যান হেইস্ট। তিনি একটি বোয়িং 747-8 এ উড়ে হংকং থেকে আলাস্কায় যাচ্ছিলেন ‌, তখনই তিনি এই লাল আলোকচ্ছটা আবিষ্কার করেন। এই আলোকচ্ছটা দেখা যায় কয়েক বার বেশ দূরে দূরে আলোর ঝলকানির পর। এখনো পর্যন্ত এ ব্যাপারটি অমীমাংসিতই রয়ে গেল। বিজ্ঞানীরা মনে করেন এটি সাগরতলের কোন আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত এর প্রতিবিম্ব।

 

বসনিয়ার পাথরের বল

source: internet

source: internet

কেউ কেউ মনে করেন যে আমাদের প্রাচীনতম পূর্বপুরুষেরা এ ধরনের পাথর বানিয়েছিলেন আকাশের বস্তুগুলোর প্রতীক হিসেবে অথবা তাদের আধিপত্যের সীমা হিসেবে। আসলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাওয়া এ ধরনের পাথরের বল গুলোর উৎপত্তি কোথা থেকে হয়েছে এটা এখনো অজানা এবং এর কোনো ব্যাখ্যা নেই।

 

মাউন্ট রাশমোর এর রহস্য

source: internet

source: internet

এই বিখ্যাত স্মৃতিস্তম্ভটির নির্মাণ কাজের সময়, স্থপতি গাসজান বোরলুম, পাহাড়ের মুখোমুখি একটি হল অব ক্রনিক্যালস তৈরি করতে চেয়েছিলেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি আব্রাহাম লিঙ্কনের মাথার পাশে একটি গুহা খুঁড়েছিলেন।

১৯৯৮ সালে তাঁর মৃত্যুর পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় পর, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলিল এর কপি এবং প্রেসিডেন্টের স্মৃতি এই অসমাপ্ত হলে স্থাপন করা হয়, এখন এটা টাইম ক‍্যাপসুল নামে পর্যটকদের জন্য চালু আছে। কেউ জানেনা ৫০বছর ধরে খালি পড়ে থাকে এই গুহা কি ভাবে ব্যবহার হয়েছিল । কেউ কেউ মনে করেন এখানে হয়তো কোনো গোপন ল্যাবরেটরি ছিল। কে জানে?

 

বোনাস ঃ চেঙ্গিস খানের কবর 

source: internet

source: internet

হাজার বছর ধরে মানুষ চেঙ্গিস খানের কবর নিয়ে অনেক গবেষণা করেছে, বিভিন্ন গবেষণা অনুসারে চায়না অথবা মঙ্গোলিয়াতে তার কবর আছে বলে সন্দেহ করা হলেও এর সত্যতা পাওয়া যায়নি এখন পর্যন্ত। 

 

আমরা সবসময় চেষ্টা করি নতুন কিছু আপনাদের জানানোর। আপনারা জানতে পারলে আমাদের আয়োজন সফল হয়।

আমাদের আয়োজন ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট, শেয়ারের মাধ্যমে আমাদের সাথেই থাকুন। আমাদের পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।



জনপ্রিয়