ভয়ংকর প্রাণীদের মুখোমুখি হলে, বেঁচে থাকার জন্য ১২ টি টেকনিক ভয়ংকর প্রাণীদের মুখোমুখি হলে, বেঁচে থাকার জন্য ১২ টি টেকনিক

ভয়ংকর প্রাণীদের মুখোমুখি হলে, বেঁচে থাকার জন্য ১২ টি টেকনিক

আমরা আশা করবো আপনি যেন কখনো একটা ক্ষুধার্ত সিংহের সামনে না পড়েন এবং আপনাকে যেন কখনও কোন গন্ডারের সামনে থেকে পালাতে না হয় অথবা কোন কুমিরের হাত থেকে সাঁতরে পালাতে না হয়। কিন্তু যদি ভুলেও এটা হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে এটা জানা গুরুত্বপূর্ণ যে কিভাবে বেঁচে থাকা যাবে।

এ বিষয়ে প্রস্তুত করার জন্যই আজ আপনাদের জন্য সংগ্রহ করলাম বন্যপ্রাণীর মুখোমুখি হওয়ার পর জীবন বাঁচাতে যে টেকনিকগুলো জানা থাকা দরকার।



হাঙ্গর

source: internet

source: internet

সুসংবাদ হল ১৫০ প্রজাতির হাঙ্গরের মধ্যে মাত্র ২০টি প্রজাতি মানুষকে আক্রমণ করে। কারণ বেশীর ভাগই আমাদেরকে খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করে না। আর দুঃসংবাদ হলো যদি কোন হাঙ্গর আপনার ব্যাপারে আগ্রহী হয় তাহলে এটা থেকে বাঁচা অত্যন্ত কঠিন। তাই হাঙ্গরকে আকর্ষণ করতে না চাইলে পানিতে রক্তাক্ত অথবা প্রশ্রাব করবেন না।

হাঙ্গর বেশ কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও গন্ধ অনুভব করতে পারে। যদি আপনি হাঙ্গরের মুখোমুখি হয়েই যান, তাহলে ভয় পেয়ে দ্রুত উল্টোদিকে পালানোর চেষ্টা করবেন না। এটা করলে আপনাকে শিকারের মতো মনে হবে। তাই ধীরে নাড়াচাড়া করুন। তাকিয়ে থাকুন এদের চোখ এবং কানকো বরাবর। এই জোন গুলো স্পরচকাতর। ‌

 

ক্যাঙ্গারু

source: internet

source: internet

ক্যাঙ্গারু তখনই আক্রমণ করে যখন কেউ তার টেরিটোরিতে ঢুকে পড়ে। সে ক্ষেত্রে প্রাণীটি হুমকি অনুভব করে। তাই দ্বন্দ্ব এড়াতে নিচের

স্টেপগুলো মেনে চলুন: কাশি দিন। মৃদু কাশি এবং শান্ত থাকা অসুস্থতার লক্ষণ মনে হয়, সেক্ষেত্রে আক্রমণ এড়ানোর সুযোগ থাকে। ধীরে ধীরে দূরে সরে যান। আপনাকে ছোট দেখাবে এবং কম ক্ষতিকর মনে হবে। উল্টোদিকে ফিরবেন না এবং দৌড়ানোর চেষ্টা করবেন না। যদি দৌড়ান, তাহলে এমন প্রাণীকে আপনার দিকে আকৃষ্ট করবেন যে অনেক লম্বা লাফ দিতে পারে এবং মুহুর্তেই আপনার কাছে পৌঁছে যেতে পারে।

 

সিংহ

source: internet

source: internet

সিংহ সাথে দেখা হয়ে গেলে ঠিক তার চোখ বরাবর তাকান। ভুল করবেন না এবং অন্যদিকে দেখবেন না কারণ চোখে চোখে যোগাযোগে সামান্য ব্যাঘাত ঘটলেই এই শিকারী প্রানী আক্রমণ করার সুযোগ পেয়ে যাবে। নিজেকে বড় দেখানোর চেষ্টা করুন। আপনার হাতগুলো উপরে তুলুন অথবা অথবা জ্যাকেটটি। যদি আপনাকে বড় এবং ভয়ংকর মনে হয় তাহলে এই শিকারি প্রাণী আপনাকে এড়িয়ে চলে যাবে।

সিংহটির সাথে মোটামুটি উঁচু গলায় আত্মবিশ্বাসের সহিত কথা বলুন। সেই সাথে নানান রকম শব্দ এবং অঙ্গভঙ্গী করুন। এ ধরনের আচরণ আক্রান্তদের মত নয়, এর ফলে প্রাণিটির আপনার সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হবে। সে মোটামুটি আপনার উপর বিরক্ত হয়েই আপনাকে এড়িয়ে চলবে।

 

হাতি

source: internet

source: internet

হাতিরা চালাক এবং বন্ধুভাবাপন্ন প্রাণী। তারপরও তারা আক্রমণ চালাতে পারে, বিশেষ করে স্ত্রী হাতি যদি মনে করে আপনি তার বাচ্চার জন্য হুমকির কারণ।
যদি কোন হাতির মুখোমুখি হয়েই যান তাহলে তার শরীরী ভাষার দিকে নজর দিন।

ভাজ করা শুঁড় আর কান পেছনের দিকে মানে সে আপনাকে আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত। যদি আক্রান্ত হয়েই যান, তাহলে পালাবার চেষ্টা করবেন না। বরং চেষ্টা করুন এমন কিছু খুঁজে পেতে যা আপনার এবং হাতিটির মাঝে বাধা হয়ে থাকবে। হতে পারে এটা কোন গাছ কিংবা পাথর।

 

গণ্ডার

source: internet

source: internet

গণ্ডারের দৃষ্টি শক্তিখুবই খারাপ। যে কারণে তাদের ভয় পাইয়ে দেয়া এবপং আক্রমণে প্রলুব্ধ করা খুবই সহজ। তারা প্রতি ঘন্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে পারে, তাই এদের কাছ থেকে পালানো খুবই কঠিন। তবে একেবারে অসম্ভব নয়।

তাদের কাছ থেকে পালানোর একমাত্র উপায় কোন গাছের পেছনে লুকিয়ে পড়া- এটা তাদের জন্য বিশাল বাধা। এই প্রানি আপনাকে ঝোপঝাড় বা উঁচু ঘাসের পেছনেও খুঁজতে যাবে না।

 

জলহস্তী

source: internet

source: internet

এই প্রাণীটি যদিও দেখতে সুন্দর, কুমিরের কারণে যত মানুষ মারা যায় তারচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যুর কারণ এই প্রাণীটি। ওজনে এত ভারী হ‌ওয়া সত্বেও এরা ঘন্টা প্রতি ৩০ কি.মি. বেগ এ ছুটতে পারে। তার উপর এদের রাগিয়ে দেয়া বেশ সহজ। 

যদি আবহাওয়া গরম থাকে তাহলে ঝোপঝাড় এড়িয়ে চলুন। খরার সময় পানির লেভেল নিচে নেমে গেলে, জলহস্তীরা লম্বা ঘাসের মাঝে লুকিয়ে থাকে। জলহস্তীর হাত থেকে বাঁচতে চাইলে, কোন একটা গাছে উঠে পড়ুন, উঁচু পাথর বা খাড়া উঁচু স্থানে উঠে পড়ুন। তারপর প্রাণীটি  সরে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

 

ষাঁড়

source: internet

যদিও আমাদের প্রচলিত বিশ্বাস যাই হোক না কেন, আসলে লাল রঙ দেখলেই ষাঁড় তেঁড়ে আসেনা, বরং নড়াচড়া দেখলেই তারা তেঁড়ে আসে। এ কারণেই যদি কোন ষাঁড় আপনার পেছনে ছুটে আসে তাহলে হলে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ুন, আর আপনার টিশার্ট অথবা অন্য কোন কাপড় কে টোপ হিসেবে ব্যবহার করুন। ষাঁড়টি যখন আপনার কাছাকাছি চলে আসবে তখন ঐ কাপটি দূরে ছুঁড়ে মারুন- ষাঁরটি ওটার পিছনেই ছুটবে।

source: internet

 

জেলিফিশ

source: brightside

source: brightside

‎জেলিফিশের হূল লম্বা সময়ের জন্য বিরক্তিকর ব্যথা রেখে যায়। আপনি চাইলে মিথ অনুযায়ী, তাদের হুল ফুটানো জায়গায় প্রস্রাব করতে পারেন। তবে এটা কেবল মিথ‌ই। একবার যদি ফুল ফুটিয়েই ফেলে, তাহলে জায়গাটি লবণ পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন। মিঠা পানি অবস্থার আরো অবনতি করবে। তারপর একটি কাঠি দিয়ে ময়লা গুলো পরিষ্কার করে ফেলুন। অ‍্যান্টিহিস্টামিন ক্রিম থাকলে লাগাতে পারেন।

 

এলিগেটর অথবা কুমির

source: brightside

source: brightside

এই প্রাণীগুলোর চোয়াল পৃথিবীর সবচেয়ে শক্ত চোয়াল। যদি কোন এলিগেটর বা কুমির এর কাছে ধরা খান সেক্ষেত্রে খুব সহজে ছুটে আসতে পারবেন না।
ধরা খেয়ে গেলে এই প্রাণীর চোখে আঘাত করুন। এই প্রাণীগুলোর চোখ এবং গলা সবচেয়ে স্পর্শ কাতর অংশ। তাই নিজেকে মুক্ত করতে এ গুলোর দিকেই নজর দিন।
যদি আপনি খেয়াল করেন যে এই শিকারি আপনার দিকে তেড়ে আসছে তাহলে প্রচুর শব্দ তৈরি করুন এবং আঁকাবাঁকা পথে দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করুন। একমাত্র দৌড়ে আর চিৎকার করে পালানোই এই সমস্যার সমাধান।

যদি দেখেন কোন কুমির আপনার দিকে সাঁতরে আসছে, তাহলে পানি ছিটাবেন না এবং চিৎকার করবেন না, এটা করলে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফেলবেন। যতখানি পারেন নিঃশব্দে সাঁতরে সরে আসুন।

 

সাপ

source: brightside

source: brightside

বেশিরভাগ সাপ‌ই বিপদজনক এবং বিষাক্ত নয়। তাদেরকে ধরতে গিয়ে এই ৮০ ভাগের ওপর মানুষ সাপের কামড় খায়। যদি দেখেন কোন সাপ আপনাকে অনুসরণ করছে তাহলে পা দিয়ে শব্দ তৈরি করুন। কম্পনের কারনে সাপটি ভুল পথে চালিত হবে এবং আপনাকে হারিয়ে ফেলবে।

যদি কামড় খেয়ে ফেলেন তাহলে সিনেমার মতো চুষে বিষ বের করতে যাবেন না। ভালো হয় যদি ট্যাপের পানি দিয়ে জায়গাটি পরিষ্কার করে নিতে পারেন, এবং কোন কাপড় দিয়ে কামড়ের জায়গায় একটু উপরে বেঁধে রাখুন এবং উদ্ধারকারীদের খবর দিন।

 

গরিলা

source: brightside

source: brightside

গরিলাদের কে বলা হয় জঙ্গলের রাজা এবং এর পেছনে অবশ্যই কারণ আছে। নিজের পরিবার এবং জায়গা ধরে রাখতে তারা সত্যিকার নেতা সুলভ আচরণ করতে পারে। আপনি যদি সঠিক ব্যবহার করেন তাহলে তারা আপনাকে আক্রমণ করবে না। বসে পরুন যাতে আপনাকে গরিলাদের চেয়ে বড় মনে না হয়। শিস দেয়ার চেষ্টা করুন এবং তাদের চোখের দিকে তাকাবেন না। যদি আক্রমণ করে তাহলে একটা বলে পরিণত হন। গরিলারা গর্বিত প্রাণী এ কারণে তারা দুর্বল এবং অসহায়দের আক্রমণ করে না।

 

মৌমাছি

source: brightside

source: brightside

মৌমাছি তাদের বাসা রক্ষা করবে এবং যদি আপনি শুধু হেঁটে চলে যেতে থাকেন তখন‌ও হুল ফুটাতে পারে। অন্ধকার রং তাদের আকর্ষণ করে। তাই ডালারে t-shirt পরিধানরত অবস্থায় মৌমাছির কামড় খাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।


যদি ছোট্ট একটি দল বা অল্প কয়েকটি মৌমাছি আপনাকে অনুসরণ করে তাহলে অন্ধকার কোন জায়গায় লুকিয়ে পড়ুন। আলোর অভাবে তারা দিকভ্রান্ত হবে।

 

আমাদের লক্ষ্য থাকে সবসময় নতুন কিছু আপনাদের জানানোর। আপনারা নতুন কিছু জানতে পারলে আমাদের আয়োজন সার্থক হয়।

আমাদের আয়োজন ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট, শেয়ারের মাধ্যমে আমাদের সাথেই থাকুন। আমাদের পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।



জনপ্রিয়