জ্যাক ও লরেন- এক ভ্রমণ দম্পতির গল্প!    জ্যাক ও লরেন- এক ভ্রমণ দম্পতির গল্প!

ইন্সটাগ্রামে ভ্রমনের ছবি দিয়ে এই জুটি প্রতি ছবিতে আয় করেন ৯০০০ ডলার!

জ্যাক মোরিস ও তার বান্ধবী লরেন বুলেন যেভাবে তাদের জীবন অতিবাহিত করছেন তা বেশীরভাগ দম্পতিরই জীবনের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য। কে না চায় নিজের কাছের মানুষটিকে নিয়ে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দাপিয়ে বেড়াতে? সকলের ক্ষেত্রেই যে সমস্যাটা দেখা দেয় সেটা হচ্ছে অর্থ। কিন্তু জ্যাক মোরিস ও লরেনের কাছে সেটা শুধু স্বপ্ন ছিল না, ছিল প্রবল ইচ্ছা। আর সেখান থেকেই তাদের যাত্রা শুরু বিশ্ব ঘুরে দেখার এবং বিভিন্ন স্থানের উপর ডকুমেন্টারি করার। 

 

২৭ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক জ্যাক মরিস এবং তার বান্ধবী অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক ২৪ বছর বয়সী লরেন এর পরিচয় হয় যখন তারা ২০১৬ সালে ফিজিতে ঘুরতে গিয়েছিলেন। এরপর থেকে তারা ৪৫ টি দেশ একসাথে ঘুরেছে এবং তাদের ট্রাভেল ব্লগ এ বিভিন্ন ছবি আপলোড করেছে, তাদের ছবিগুলো দুর্দান্ত হয় । ভ্রমনের মাধ্যমে তারা তাদের আয় ও জীবন কাটে। প্রতি ছবি ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করে তারা আয় করেন ৯০০০ ডলার। বর্তমানে তারা দুজনেই ইন্দোনেশিয়ার বালিতে বসবাস করছেন। 

 

এই কাপল সাধারনত টাকা পায় বিভিন্ন ব্র্যান্ড এবং ট্যুরিজম কোম্পানি গুলোর স্পন্সর থেকে, ইন্সটাগ্রামে জ্যাকের ফলোয়ার প্রায় ২ মিলিয়ন ও লরেনের ১.২ মিলিয়ন। তারা দুইজনই এডভেঞ্চার প্রিয় এবং একসাথে ভ্রমণ করে বেড়ান। জ্যাক বলেন তারা যে ছবিগুলো তোলেন সেগুলোর বেশীরভাগ ছবিই সূর্যোদয়ের ঠিক ১ ঘন্টা পর তোলা হয়ে থাকে কারণ সে সময়টাই ছবি তোলার সবচাইতে মোক্ষম সময় যখন চারপাশ একদম শান্ত ও নিস্তব্ধ থাকে। জ্যাক আরো বলেন তারা কোন ভ্রমণের পোস্ট ৩০০০ ডলারের নিচে ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করেন না।যেই ছবির জন্য এতকিছু চলুন দেখে আসা যাক ...

 

জ্যাক ও তার বান্ধবী লরেন তাদের জীবন ধারণের পথ হিসেবে ভ্রমণকেই বেছে নিয়েছেন। 

 

 তাদের নিখুঁত ইন্সট্রাগ্রামের ছবি তাদের ইন্সট্রাগ্রাম একাউন্টে মিলিয়নের মতো ফলোয়ার টানতে সহায়তা করেছে। 

 

বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও ট্যুরিজম কোম্পানিসমূহ প্রতি পোস্টের জন্য সর্বোচ্চ ৯০০০ ডলার ও প্রদান করে থাকে।  

 

২৬ বছর বয়সী জ্যাক ২০১২ সালে নিজ মাতৃভূমি ম্যানচেস্টার ছাড়ার আগে সেখানে কার্পেট ক্লিনার হিসেবে কাজ করতেন।

 

অস্ট্রেলিয়া থেকে আগত লরেন হচ্ছেন একজন স্ব শিক্ষিত ফটোগ্রাফার যার ডাক নাম জিপসিয়া লাস্ট। 

 

এই জুটির দেখা হয়েছিল ফিজিতে এবং বর্তমানে বালিতে একসাথে বসবাস করেন। 

 

যদিও তাদের বর্তমান ঠিকানা বালি দ্বীপ তবে প্রতিমাসে তারা অন্তত একটা নতুন দেশে ভ্রমণ করেন। 

 

এই দম্পতি সকল ছবি নিজেরাই তোলেন। ছবি তোলার ক্ষেত্রে ট্রাইপড ও টাইমার রিমোট ব্যবহার করেন। 

 

তারা এখন পর্যন্ত  কয়েক ডজনের অধিক দেশে ভ্রমণ করেছেন এবং প্রতিটা ভ্রমণের ছবি দিয়ে প্রচুর টাকাও আয় করেছেন। 

 

জ্যাক যার কিনা নিজের Do You Travel নামে একটি ট্রাভেল ব্লগ ও রয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে তার সফলতার পেছনে বেশ কিছু গোপন তথ্য প্রকাশ করেছেন যা উৎসুক মানুষগুলো অনেক দিন ধরেই জানতে চাইছিলেন।

 

জ্যাক তার ব্লগে প্রশ্ন উত্তর পর্বে বলেনে, " আমি আমার সকল ছবি নিজস্ব পদ্ধতিতে একই স্টাইল অনুসরণ করে পূর্ব পরিকল্পিত লাইট রুমে ইডিট করে থাকি।" 

 

"বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা আমাদের ছবি তোলার সময় হিসেবে ভোরবেলাটাকেই বেছে নেই, কারণ সেসময় আমার মতে ছবি তোলার সবচাইতে উত্তম সময়।" জ্যাক বলেন। 

 

" আমি আমাদের ছবিগুলো কখনোই কোন মোবাইল অ্যাাপ কিংবা ফিল্টার ব্যবহার করে ইডিট করি না, এক্ষেত্রে নিজস্ব ম্যাকবুক প্রো এর লাইটরুম ব্যবহার করে থাকি।" 

 

পিনইন্টারেস্ট ও ইন্সটাগ্রামে নিজেদের ভ্রমণের ছবির প্রশংসাই তাদের মূল অনুপ্রেরণা বলে তারা জানান। 

 

" আমি কখনোই প্রত্যাশা করি নাই যে ভ্রমণের সঙ্গী হিসেবে কাউকে পাবো?" নিজেদের জীবন নিয়ে খোলাখুলি এ কথা ব্যক্ত করেন জ্যাক। 

 

" এটা ধরতে গেলে একটা স্বপ্নই ছিল। প্রতিদিন সেটাই করা যা আমি করতে চাই, প্রতিটা দিনই সুন্দর।" জ্যাক বলেন। 

পুরো আয়োজনটা আপনাদের কেমন লাগলো তা জানাতে ভুলবেন না যেন? বিয়ের পর আপনি আপনার সঙ্গীকে নিয়ে কোন দেশে সবার আগে যেতে চান আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ... 



জনপ্রিয়