রাগের ইতিবৃত্ত  রাগের ইতিবৃত্ত

রাগ নিপাত যাক, রাগ কমানোর জন্য এই ওষুধগুলো অত্যন্ত কার্যকর!

রাগ মানুষের স্বাভাবিক আবেগের মধ্যে একটি। তবে অতিরিক্ত রাগ সম্পর্কের অবনতি ঘটায়, অন্যের কাছে অপ্রিয় করে তোলে আপনাকে। শুধু তা-ই নয়, শরীরেও কিন্তু এর বাজে প্রভাব পড়ে। যাঁদের অতিরিক্ত রেগে যাওয়ার প্রবণতা আছে, তাঁদের হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি থাকে। আর একটু ভেবে দেখুন, রেগে গেলে কিন্তু আপনার নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে চলে যায়, তাই নয় কি? তাই রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে কিছু কৌশল অবলম্বন করুন। প্রয়োজনে মনোবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

রাগ অপ্রয়োজনী বা অস্বাভাবিক কিছু নয়, বরং রাগ হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে এই স্বাভাবিক রাগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নিমিষেই সব কিছুকে অস্বাভাবিক করে তুলতে পারে। ঘটে যাতে পারে সম্পর্কের ছাড়াছাড়ি বা অনাকাঙ্ক্ষিত কোন ঘটনা যা আমাদের প্রত্যাশিত নয়। তাই সব কিছু শেষ হবার আগেই আমাদের জানতে হবে রাগ হওয়ার পেছনের কারণ গুলো সম্পর্কে। যার সাহায্যে আমরা আমাদের রাগ টিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারব, ব্যবহার করতে পারব প্রয়োজনীয় কাজে (আমরা সবাই জানি, কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাগ ছাড়া কাজ হয় না) সে কারণে আমাদের শিক্ষতে হবে রাগের ইতিবাচক ব্যবহার, নেতিবাচক ভাবে নয়। আজ জানবো রাগ নিয়ন্ত্রণের কিছু উপায়ের কথা ও  রাগ করলে শরীরে কী কী সমস্যা হতে পারে সেগুলোর কথা।

 

একটি সম্ভাব্য উপায় বের করুনঃ আপনি আপনার সন্তানের কোন কাজে বিরক্ত হয়ে তার উপর রাগ করলেন বা কারো কোন আচরণে। তবে আপনাকে আপনার সন্তান বা লোকটি কেন এই কাজ করছে তার সম্ভাব্য কারণ বের করুন এবং কেন এটি কিভাবে বন্ধ করা যায় তার উপায় বের করুন।

ক্ষমা করতে শিখুনঃ ক্ষমা একটি মহৎ গুণ। আর এ গুণ সবার থাকে না। আপনি যদি ক্ষমাশীলতার অভ্যাস করেন তাহলে তা নানাভাবে প্রভাবিত করবে আপনাকে। যেসব ব্যক্তি ক্ষমাশীলতার অনুশীলন করে তারা অন্যদের তুলনায় বেশি মানসিক শান্তিতে থাকে। আর এর প্রভাব পড়েগ তাদের শরীর ও মনে। ফলে তারা মানসিক শান্তির কারণে বেশিদিন আয়ু লাভ করে। কাউকে অন্তর থেকে ক্ষমা করে দিলে তা আপনার মনের রাগ দূর করবে। আর এ কারণে ক্ষমা আপনার রাগ দূর করার পাশাপাশি রক্তচাপ ও অনুরূপ শারীরিক বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ভুলে যাওয়াঃ সাধারণত কেউ কোন অন্যায় বা ভুল করলে সামাধানের পরও আমরা রাগ মনে জিইয়ে রাখি। কিন্তু বিষয়টি যদি ভুলে যায়, তবে মনে রাগ দানা বাঁধবে না।

আপনার বলার ধরণের উন্নত করাঃ রাগ বেশি হবে না কম তা অনেক সময় আমাদের কথা বলার ধরনের উপর অনেকটা নির্ভর করে। তাই রাগ পরিহার বা নিয়ন্ত্রণ করতে আমাদের বলার ধরণ একটু উন্নত হওয়া উচিত।

 

স্থির বা ঠাণ্ডা মস্তিষ্কঃ স্থির বা ঠাণ্ডা মস্তিষ্কের মানুষ রাগ করে কম। ফলে তারা সমস্যায় পড়েও কম। কেউ অন্যায় কিছু করলে রাগ না করে আগে ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করুন।

রাগ করলে শরীরে কী কী সমস্যা হতে পারে সেগুলোর কথা...

হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়
অতিরিক্ত রাগ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, টানা দুই ঘণ্টা যদি কেউ বিক্ষিপ্ত অবস্থায় থাকে, তাহলে তাঁর হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায় বহুগুণে। 

স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে
অতিরিক্ত রাগ কিন্তু স্ট্রোকেরও ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। যদি আপনার হুট করে রাগ উঠে যায় এবং তা অনেকক্ষণ ধরে স্থায়ী, তবে দ্রুত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কেননা, এটি মস্তিষ্কের ওপর চাপ ফেলে। এতে মস্তিষ্কের রক্তনালিগুলো বন্ধ হয়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।  

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়
আপনি যদি সব সময় রেগে থাকেন বা স্বাভাবিকভাবে আচরণ করতে না পারেন, দেখবেন কেমন যেন দুর্বল লাগছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, টানা ছয় ঘণ্টা মন-মেজাজ খারাপ থাকলে বা রেগে থাকলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এতে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ হয় শরীরে।

 

বিষণ্ণতা বাড়ায়
অতিরিক্ত রাগ বা মেজাজ মানুষের মধ্যে বিষণ্ণতা তৈরি করে। কোনো বিষয়ে রেগে গেলে এবং বিষয়টি সমাধান করতে না পারলে আমাদের মধ্যে বিষণ্ণতা তৈরি হয়। তাই রাগ নিয়ন্ত্রণ করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা  করুন। রাগ দেখিয়ে কিন্তু সমস্যার সমাধান করা যায় না। শুধু শুধু মানুষের কাছে অপ্রিয় হতে হয়। 

আয়ু কমিয়ে দেয়
রাগ মানুষের আয়ু কমিয়ে দেয়। গবেষণায় বলা হয়, সুখী মানুষ দীর্ঘদিন বাঁচে। সব সময় ক্ষেপে গেলে বা অল্পতেই রাগ করার প্রবণতা থাকলে আপনি কিন্তু নিজের সুখকেই নষ্ট করছেন।

আমাদের সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ.... 



জনপ্রিয়